
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি হওয়া ‘মাস্ট-ক্লাউডনেট’ (MAST-CloudNet)-এর মাধ্যমে এডিস মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন ধারার উন্মোচন সম্ভব হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় ফাঁদটি শ্বাসকষ্টের মাধ্যমে পুজা পুজা মশাকে সংকটের বন্ধনে আটকে ফেলে, তারপর ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলে এবং ক্লাউড সার্ভারে এআই মডেল মশার প্রজাতি ও সংখ্যা গণনা করে। ফলে পর্যবেক্ষকরা দূর থেকে পুরো এলাকার মশা সংখ্যা ও বিস্তার পরিচিত হতে পারেন।
এছাড়াও গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, পুরুষ এডিস মশা স্ত্রী মশার ডানা থেকে নির্গত শব্দের আকর্ষণে প্রবল, যা ব্যবস্থায় ৩৫০ থেকে ৫০০ হার্জের ক্ষেত্রে পৌঁছায়। এই শব্দ শুনে পুরুষ মশা কাছে যায় এবং ফাঁদের ভেতরের ফ্যানের চাপে তারা আটকে পড়ে, এরপর আঠালো কাগজে আটকা পড়ার পর ছবি সংগ্রহ করা হয়।
২০২৭ সালের জুন-জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি এডিস ফাঁদ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে আগামী মানচিত্র তৈরির সুযোগ হবে। অতীত পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চালানো একটি ফাঁদে প্রায় প্রতি ১২ হাজার টাকার খরচ হয়েছে, যা যেমন সিডিসি লাইট ট্র্যাপের ২৫ হাজার টাকার বেশি এবং বিজি-সেন্টিনেল ট্র্যাপের ২০ হাজার টাকারও বেশি। তবে একসঙ্গে অনেক ফাঁদে তথ্য বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে একাধিক এলাকার তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে। ব্যাটারির সাহায্যে ফাঁদ চার ঘণ্টা পর্যন্ত চালানো সম্ভব, যা বিদ্যুৎ না থাকলেও কাজ করবে।
গবেষকদের মতে, পুরুষ এডিস মশা মানুষের রক্ত পান না বলে এদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেশি সুবিধা হয়। তবে পুরুষ মশার সংখ্যার পর্যবেক্ষণ থেকে শুধু ডেঙ্গু হারর রকমা না হলে, পুরু নারী মশার প্রজনন স্থল নির্দেশক হিসেবে কাজ করে বলা হয়েছে। এই ফাঁদটির উদ্ভাবক দলের সদস্যদের মধ্যে গবেষক ড. সাইয়েদ মাহমুদ উল্লাহ, ড. মো. আহসান হাবীব ও অন্যান্য প্রযুক্তিশাস্ত্রীদের আগমন থেকে এদের তৈরি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপহার দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, এদের তথ্য পরিণত হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়ে আসবে এবং বিশ্রাম দেয় প্রশিক্ষিত মানুষকে সাহায্য করবে।
এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী “আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট” শত্রুপত্রে প্রকাশিত এবং এখনো পরীক্ষা ও উন্নয়নের অপেক্ষায়।
