
ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন যে জুলাই মাসে শহীদ হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল এবং যুবদলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই তথ্য সচেতনভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ জেলা ঝিনাইদহে তিনি এই বিষয়টি উঠিয়ে দিয়ে দেশের রাজনৈতিক হালচলে নতুন একটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা এবং শহীদদের সংখ্যা
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জুলাইয়ে বিএনপি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, নেপথ্য থেকে বিএনপির যে ভূমিকা সেই ভূমিকাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা।’ তিনি আরও দাবি করেন যে শহীদ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সত্তার দায়িত্ব। তাদের মতে, ‘জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বিএনপির এবং ছাত্রদলের, যুবদলের নেতাকর্মীরা। এই বিষয়টিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এক ধরনের লুকানো হয়েছিল।’
এই দাবি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন দিক খুলেছে। জুলাই আন্দোলন মূলত ছাত্র-জনতার স্বतःস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল, কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, তাদের নেতাকর্মীদের বলিদানকে যথার্থ স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।
শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম
রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন, শহীদদের স্মৃতি অমলিন রাখতে এবং শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখা, তাদের কবর জিয়ারত করা— এরকম বিভিন্ন ধারাবাহিক কার্যক্রম তিনি করছেন। এই কাজে জেলা বিএনপি তাঁর সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এই উদ্যোগকে অনেকেই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কোনো দলের একক অধিকার নয়, বরং এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তবে বিএনপি এই কাজকে সংগঠনগত স্তরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জনমানসের মধ্যে তাদের আন্দোলনমূলক চরিত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
স্থানীয় নির্বাচন: বিএনপির প্রস্তুতি এবং দলীয় অনুশাসন
স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি সবসময় থাকে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল।’ তিনি স্পষ্ট করেছেন যে স্থানীয় নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি দলের চেন অফ কমান্ড ভেঙে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়, তার বিরুদ্ধে দল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই কঠোর দাঁড়ি বিএনপির অভ্যন্তরীণ অনুশাসন রক্ষার চেষ্টা নির্দেশ করে। গত 국회의원 নির্বাচনে বিএনপি অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় স্তরে দলটির সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুহূর্তে আছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পূর্বে বলেছেন, দেশের মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায়। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ— দুজনো।
রাজনীতিতে বুলেটের পরিবর্তে ব্যালটের আহ্বান
বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিংসা ও বুলেটের সংস্কৃতি প্রতিবার ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিরোধের কথা শুনা যায়। এই সन्दর্ভে হাসানত আব্দুল্লাহর মতামত উল্লেখযোগ্য, যিনি বলেছেন, বুলেটের রাজনীতিকে আমরা ব্যালটের রাজনীতির মাধ্যমে পরাজিত করব। বিএনপির এই দাঁড়ি তাদের গণতান্ত্রিক পথে চলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় উন্নয়ন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
ঝিনাইদহার রূপসা উপজেলাকে আধুনিক ও উন্নত উপজেলা বানাতে চান এমপি আজিজুল বারী হেলাল। এই ধরনের স্থানীয় উন্নয়নের আশ্বাস নির্বাচনের মুখ্য মুদ্রা হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন। এই জমিনস্তরের কাজই ভোটারের বিশ্বাস জিতে আনতে পারে।
আগামীর রাস্তা
জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে হলে সব দলের অবদান নিরপেক্ষভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। শহীদদের নামের ওপর রাজনীতি না করে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নেওয়া ही সच्चে শ্রদ্ধা। একই সাথে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলীয় অনুশাসন রক্ষা এবং জনমানসের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ— এই দুটি চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে রয়েছে। আগামী দিনগুলোই দেখাবে, বিএনপি এই পথে কতটুকু সফল হয়।
