
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তাহসিফ সাউরি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং পরে সেটি অনলাইনে ভাইরাল হয়। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করা যাবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদারও একই অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এ ঘটনার জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে।
অন্যদিকে, দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানান। তারা আদালতকে জানান, তাহসিফের সঙ্গে দীপের পারিবারিকভাবে প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। শুরু থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
আইনজীবীরা আরও বলেন, তাহসিফের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না বলে তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারাও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পক্ষে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের জানান, দীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে রক্ষা করার এবং যৌথ দায়বদ্ধতার অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ২০৩, ২০১ ও ৩৪ ধারায় এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময়:এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন শুক্রবার রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাহসিফের বাবা মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তদন্তসূত্রে জানা যায়, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে ওই এলাকায় যাওয়ার কথা দীপ স্বীকার করেছিলেন।
দীপের দাবি, ঘটনার দিন রাতে তারা একসঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খান। পরে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হন তিনি।
লাশ উদ্ধারের পদ্ধতি:বুধবার বিকেলে রাজধানীর তুরাগের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় এক স্বজনকে উদ্দেশ করে দীপ বলেন, “আমি ফুললি স্ট্রং।” একই সঙ্গে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার কথাও বলেন তিনি।
