
যশোর শহরের মাইকপট্টি মোড়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করেছে।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন, ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দড়াতানা মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় তারা বর্তমান সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়ন করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পালন করেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারীরা খুব ভোরে মিছিলটি করেছেন। পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং ১৭ জনকে আটক করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম, রকি, সোহাগ, তারেক আজিজ, নুর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, মকবুল হোসেন, হৃদয়, সুমন শেখ ও সেলিমের নাম রয়েছে।
এছাড়াও যশোরের নয়টি থানায় নাশকতা অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানায় ১৭ জন, চৌগাছা থানায় ২ জন, মণিরামপুরে ৩ জন, শার্শায় ২ জন, অভয়নগরে ৪ জন, কেশবপুরে ৩ জন, বাঘারপাড়ায় ৪ জন, বেনাপোল বন্দর থানায় ৪ জন এবং ঝিকরগাছা থানায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানায় আটক ১৭ জনের মধ্যে ৭ জন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
