
চট্টগ্রামে আগামীকাল এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গাছ রোপণের পাশাপাশি চারা টিকিয়ে রাখার নিয়মিত পরিচর্যায় জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্বল বা নষ্ট চারা প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে এক লাখ চারা বাঁচিয়ে রাখা।
ওই দিন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রথম চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ শেষে বিকেলে ডিসি পার্কে এক লাখতম চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসি বলেছেন, “আমরা এই গাছগুলো শুধু লাগাব না, সঠিকভাবে পরিচর্যাও করব।” তিনি জানান, মানসম্মত ও তুলনামূলক বড় চারা সংগ্রহ করে বেঁচে থাকার হার বাড়ানো হচ্ছে এবং রোপণের পর কোনো চারা দুর্বল হয়ে পড়লে তা বদলে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে ২ হাজার ২৭৫টি নারকেল চারা হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিসি পার্ক ও জেলা পুলিশকে ৫০০টি করে, সিএমপি ও বিমানবন্দরকে ৩০০টি করে, সমাজসেবা ও চিড়িয়াখানাকে ১৫০টি করে এবং এসআরবি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ১০০টি করে চারা দেওয়া হয়েছে। জমিয়াতুল ফালাহ, হজ ক্যাম্প ও ডি জিএফআই পেয়েছে ৫০টি করে চারা। এ ছাড়া স্টেডিয়ামকে ১৫টি ও সার্কিট হাউসকে ১০টি চারা দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির জন্য সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন থেকে ৩০ হাজার, বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৭ হাজার এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ থেকে ১০ হাজার চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা বণ্টন করা হবে। কর্মসূচিতে উপকূলীয় এলাকায় নারকেলগাছ লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিসি বলেন, উপকূল ও সাগরপাড়ে নারকেলগাছের বৃদ্ধি ও ফলনের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। সন্দ্বীপের একটি বড় অংশ নারকেলগাছে আচ্ছাদিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিসি বলেন, “আমরা যে সবুজ চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যে সবুজ পরিবেশ গড়তে চাই, তা যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।” এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক থাকাকালে জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে “গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ” কর্মসূচিতে এক লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছিল।
