
জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে জাতীয় সংসদ দুই কক্ষের মেয়াদ, উচ্চকক্ষের কাঠামো ও নির্বাচনকালীন তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্পর্কে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা বিসঙ্গতি জানান। বৈঠকে দুই কক্ষের মতামত, সদস্যদের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবর (২৫ অক্টোবর) বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের শিক্ষক ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা এসব বিষয়ে মতামত দেন। একই সঙ্গে উচ্চককক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও উচ্চকক্ষ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে আলোচকরা মনে করেন। এতে নির্বাচনকালীন তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; সংসদের দলগুলোকে লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।
উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে একাধিক প্রস্তাব উঠে আসে। তাদের মধ্যে একটি হলো, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে ৫০টি আসন বণ্টন এবং নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে বাকি ৫০টি আসন বণ্টন করা।
এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়েও আলোচকরা মতামত দেন।
তবে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী। উচ্চকক্ষ গঠনের পরিবর্তে উপদেষ্টা পরিষদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও এসেছে। ফলে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ নির্ধারণ, উচ্চকক্ষের কাঠামো এবং তত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতিসহ আলোচ্য বিষয়গুলোতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
