
মধ্যপ্রাচ্যের সংকস্ত পরিবেশে মার্কিন শীর্ষ কর্তাদের ওপর হত্যার পরিকল্পনা করতে ইরানের গোয়েন্দা তথ্যের জন্ম দেখা যায়। এই তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সংখ্যা কমানোর পেছনে ইরানের তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত লেগেছে।
গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পাশাপাশি মহামার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার করা একটি স্মারকে ইরানের মার্কিন কর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার সম্ভাবনা স্পষ্ট করে তুলেছে। স্মারকে জন্মদানকারী ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টর (ডিএনআই) জে ক্লেটন এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার স্তর কমিয়ে দিয়ে দূতাবাসের কর্মীদের সতর্কতা প্রদান করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে হুথি গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকি ও ইরানের সন্ত্রাসী তৎপরতার সমন্বয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশ্বস্ত করছে যে, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও হামলা সম্প্রসারণ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানের মার্কিন দূতাবাস থেকে পরিবার ও কর্মীদের বৃহত্তর অংশ চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উঠাতে জোর দেওয়ায় মনোযোগ খুঁজে দিয়েছেন। তিনি অপারেশন এপিক ফিউরির মতবাদ উত্তরের মধ্যে রয়েছে এবং ইরানকে বদলিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করছেন। তবে তিনি শিক্ষিত দেশটি কোনও চুক্তিতে রাজা বা সামরিক অভিযান করবে কি না-তে স্পষ্টভাবে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ত্বকাত্মক হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত, ইরানের গোয়েন্দা ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের হুমকি—এই সবই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তারিত টক্সিক পরিবেশে একটি নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা যায়। সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিবেদনের মতে গোয়েন্দা তথ্যটি ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে।
