
জীবিকার লড়াইয়ে ৭০ বছরেও ঢাক নিয়ে বাদ্য বাজাচ্ছেন গৌরাঙ্গ
কোটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে প্রতিবেশবাসীদের জীবনযাপনের সাথে যুক্ত প্রত্নীপতি রয়েছে এই বাদ্যবাজারের সূচনা। নবাবগঞ্জ থেকে ৫৫ বছর পুরনো যোক গৌরাঙ্গ মনি দাস এবং তার ছোট ভাই নৃত দাস দুই ভাই ঈয়ে প্রতিবেবর দুর্গাপূজার আগে প্রতিবেবর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে আসেন। প্রায় বিশ ২০ বছর এই হাটে স্বয়ংসার জীবন অর্জন করে আসছেন তিন ব্যক্তিতে।
তাদের পরিবারের সাজেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়ন্ত। গৌরাঙ্গ মনি দাস যে বাড়িতে বাস করেন তায় এখানে স্ত্রী ও ছোট ছেয়ের পাঁচজন। নৃত দাসের পরিবার একজন স্ত্রী ও ছোট ছেয়ের সাথে বাস করে। দুই ভাইই প্রতিবেবরের ঐতিহ্যবাহী বাজারে ঐক্য করে বাদ্যযন্ত্র বাজানো তাদের প্রধান পেশা। ঈয়ের জন্য তারা মাসে একবার মৌসুমের চুক্তি করে তাল তোলেন এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানোর জন্য দরদাম নেন।
বাদ্যবাজার শুধু সমস্মার্থ নয়। প্রতিবেবরের সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে এবং ছয় মেয়ের পাশাপাশি এই বাজনা আয়শীল করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বড় ভাই গৌরাঙ্গ মনি দাস তাল তোলেন এবং ছোট ভাই নৃত দাস বাঁশি বাজাই, এভাবে দুই ভাইই মিলে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করেন। বড় ভাই মনে বলেন দুর্গাপূজার মৌসুমে বয়না পাওয়া তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে তাদের আ বা আয় নির্ভর করে। আগে তারা ঢাকে বায়না পেতে হতো, কিন্তু সাম্প্রদায়িক পরিবর্তনের ফলে ঢাকির চাহিদা কিছুটা কমে যাচ্ছে। প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৈশিষ্ট্য বায়না হচ্ছে, যা আগে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিল।
“আমরা দুই বয়সী ২২ বছরের বয়সেই কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে আসছি,” জাগো নিউজকে বলে গৌরাঙ্গ মনি দাস। “এই বয়সেও বাদ্য বাজিয়েই খেতে হচ্ছে এবং সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও ছয় মেয়ের পাঁচজনের ওপর নির্ভরশীল।” তিনি যোগ দেন যে বাদ্যবাজারের চুক্তি পেতে ব্যাপক ঈয়ের পাশাপাশি তারা অন্যান্য বিজ্ঞাপন ও ব্যবসার কাজেও অংশ নেয়। কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ চন্দ্র বর্মণ হালকা কথা বলে বলেন, “গতবছর ছয়জন মিলে ৮০ হাজার টাকা বায়না পেয়েছিলাম, এখন ৯০ হাজার টাকা পেলে যেতে রাজি আছি।” তিনি যুক্ত করেন যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকির ভ্রমণ ঘটে।
বাজনার ক্ষেত্রে অন্যান্য দলগুলোও কাজ করছেন। কটিয়াদী পৌরসভার পুরানবাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মাঠসংলগ্ন ঢাকের হাটে একজন বাদ্যবাজকের কাছে বাজনা চুক্তি পেতে দরদাম করছেন। এই ঐতিহ্যবাহী হাটের প্রায় ৫০ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানো তাদের প্রধান পেশা হয়ে আছে। কোটালীপাড়ার উপজেলার উত্তম কুমার সেন পেশায় হেলথ ইন্সপেক্টর বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে আটটি সার্বজনীন দুর্গাপূজা হচ্ছে, এর মধ্যে সাতটির ঢাকির বয়না হয়ে গেছে এবং একটির ঢাকি নিতে এসেছে।” তিনি যোগ দেন যে ঢাকের হাট প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে এবং ঢাকির আয়োজন থেকে পারিশ্রমিকদের খুশি ফেরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নীতিকা দিক থেকে দিলীপ কুমার সাহা, পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি, বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উদযাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে পূজারি ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” মো. রফিকুল ইসলাম, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি, সংক্ষেপে বলেন, “পুলিশের মোবাইল টিম হাটের নিরাপত্তায় কাজ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “ঐতিহ্যবাহী কটিয়াদীর ঢাকের হাটের পরিবেশ উন্নয়ন ও ঢাকিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের জন্য শৌচাগার ও থাকার শেড নির্মাণের ব্যবস্থাও করা হবে।” গবেষণায় তিনি যোগ দেন যে দুর্গাপূজার মণ্ডপাতিয়ে চালের বরাদ্দ ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি পর্যন্ত বায়না করা হয়েছে এবং নারীদের মধ্যে বিতরণে ২০০টি কটিয়াদী ও ১০০টি পাকুন্দিয়ার বরাদ্দ করা হয়েছে।
দরবারে মনে হয় স্বপক্তিনীতি ও সম্মানের দিক থেকে এই বাজনার শ্রদ্ধাচ্য বোধ করা যাচ্ছে। ঢাকি বাজনার আ বা আয় বহু বছর ধরে এখানে প্রচলিত, এবং ববস্তু একতার্থকভাবে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে। যদিও বাদ্যবাজারে সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বাজারের প্রভাবও দেখা দিচ্ছে, গৌরাঙ্গ দুই ভাই একই সাথে তাদের পেশার সাথে পরিবারের সংগঠিত স্বপ্নও বাঁধে আছেন।
